ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ , ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎একটি ছোট্ট সেতুর অপেক্ষায় কয়েক গ্রামের মানুষ, স্বাধীনতার পরও সাঁকোই ভরসা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৭-১৪ ০১:১৯:১৪
‎একটি ছোট্ট সেতুর অপেক্ষায় কয়েক গ্রামের মানুষ, স্বাধীনতার পরও সাঁকোই ভরসা ‎একটি ছোট্ট সেতুর অপেক্ষায় কয়েক গ্রামের মানুষ, স্বাধীনতার পরও সাঁকোই ভরসা
মাহফুজ রাজা,স্টাফ রিপোর্টার:


কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের দক্ষিণ চর হাজীপুর মাঝি বাড়ি থেকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মাস্টার বাজার পর্যন্ত যাতায়াতের পথে আজও উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছায়নি। স্বাধীনতার এত বছর পরও ব্রহ্মপুত্র নদের একটি শাখা খালের ওপর একটি ছোট সেতুর অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষকে। ‎ ‎


স্থানীয়দের অভিযোগ, হোসেনপুর উপজেলার অংশে খালের ওপর একটি সেতু না থাকায় প্রতিদিন কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ‎বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। জরুরি অসুস্থ রোগী পরিবহনেও দেখা দেয় চরম ভোগান্তি। ‎ ‎এলাকাবাসী জানান, জিনারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অধিকাংশ ফসলি জমি খালের ওপারে। কৃষকদের উৎপাদিত ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য মাঠ থেকে ঘরে তুলতে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ‎ ‎


সোমবার(১৩ জুলাই) সরেজমিনে কথা হলেসাবেক গ্রাম সরকার আবেদ আলী বলেন, "স্বাধীনতার পর থেকে আমরা শুধু আশ্বাসই শুনে আসছি। একটি ছোট্ট সেতুর অভাবে কয়েকটি গ্রামের মানুষ বছরের পর বছর কষ্ট করছে। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক।" ‎ ‎স্থানীয় কৃষক মোসারফ বলেন, "আমাদের জমি খালের ওপারে। ধান, পাটসহ সব কৃষিপণ্য এই সাঁকো দিয়ে আনা-নেওয়া করতে হয়। এতে সময়, শ্রম ও খরচ অনেক বেড়ে যায়। অনেক সময় কৃষিপণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।" ‎ ‎স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাসুম বলেন, "এটি শুধু একটি গ্রামের নয়, কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রাণের দাবি। একটি সেতু হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। আমরা দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।"


ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এনামুল হক মাঝি বলেন, "এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগ সহ্য করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে দ্রুত এই স্থানে একটি সেতু নির্মাণ সম্ভব। আমরা অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ চাই।" ‎ ‎ক্ষুদে শিক্ষার্থী আশিক বলে, "প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই সাঁকো পার হতে খুব ভয় লাগে। বর্ষাকালে আরও বেশি ভয় হয়। আমরা চাই এখানে একটি ভালো সেতু হোক, তাহলে নিরাপদে স্কুলে যেতে পারব।" ‎ ‎স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতে সেতু নির্মাণের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের প্রত্যাশা, জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটে। ‎ ‎এলাকাবাসীর দাবি, একটি ছোট্ট সেতুই বদলে দিতে পারে কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা। সহজ হবে শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। ‎ ‎


বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ